আহা সুখ
Posted 13 hours ago
২০১১ সালে যখন চাকরীতে ঢুকলাম, তখন বেতন ছিল ২০০০০ টাকা। অফিসে যাতায়াত, লাঞ্চ, টুকটাক হাত খরচ, এই দিয়ে চলে যেত। বাবার হোটেলে খেতাম, সংসারে দেয়া লাগতো না। তারপরেও ২০০০০ টাকাতে চলে গেলেও পর্যাপ্ত ছিলনা। তখন মনে মনে ভাবতাম, কোন দিন যদি ৫০ হাজার টাকা বেতন হয়, তাহলে আমার মত সুখী মানুষ আর কেউ হবেনা। স্বপ্ন দেখতাম, আমার একদিন মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন হবে।
২০১৫ এ এসে নতুন পে-স্কেল পেলাম, বেতন হলো ৩৫০০০ টাকা। ৩৫ হাজার টাকাও কিভাবে যেন শেষ হয়ে যেত। তবুও ৫০ হাজার টাকা বেতনের স্বপ্ন থেকেই গেল।
২০১৮ সালে এক বন্ধুকে নিয়ে ব্যবসাতে নামলাম। বিভিন্ন অফিসে, অফিস এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ের কাজ। প্রথম মাসেই লাভের ভাগ থেকে, আমি পেলাম ৪০০০০ টাকা। আমরা দুই বন্ধুই সব। কোন অফিস অ্যাসিসটেন্টও নেই। নিজেরাই সব করি। পরের দুই মাসে বেশ ধরা খেলাম। একটি পার্টি পণ্য নিয়ে, আর টাকা দেয়না। আমাদের পুঁজিও অল্প। চোখে সর্ষে ফুল দেখি। কি করবো বুঝছি না।
৩ মাসের মাথাতেই ব্যবসা বন্ধ করার অবস্থা। আল্লাহ তায়ালার কি রহমত, একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে অফিস এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ের কাজ পেলাম। প্রথম মাসেই বেশ বড় সড় অর্ডার পেলাম। কয়েক জায়গা থেকে লোন নিয়ে, ডেলিভারি দিলাম। উক্ত কোম্পানিও ২৮ দিনের মাথাতে চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দিলেন। ওই অর্ডারের বিপরীতে আমাদের প্রফিট ছিল, ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। আমার বেতন নির্ধারণ হলো ৫০ হাজার আর আমার বন্ধুর ৬০ হাজার। বাকি টাকা থেকে, অফিস ভাড়া, পুঁজির জন্য কিছু টাকা আলাদা রাখা। নিজের মত স্বাধীন ব্যবসা। ভালই চলছে। মাঝে বন্ধুর বিসিএস হয়ে গেল, সে আর ব্যবসা করবেনা। সে ব্যবসা ছেড়েই দিলো। ব্যবসার সাথে কোন রকম সম্পর্কই রাখলো না। আমি যেন একেবারে অথৈ সাগরে পড়লাম।
বাড়ি থেকে এর আগে কিছু টাকা লোন নিয়েছি। আর বেশি টাকা আনা সম্ভব না। এক জায়গা থেকে লাখে ৫ হাজার টাকার সুদে লোন আনলাম। সাহস করে, ১৫ হাজার টাকার বেতনের, একজন অফিস সহকারীও নিয়োগ দিলাম কেননা একা একা বিজনেস করা খুবই কঠিন।
কি ভাগ্য, এক বড় ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন পর রাস্তাতে দেখা। তিনি একটি কোম্পানির প্রকিউরমেন্ট বিভাগে রয়েছেন। ভিজিটিং কার্ড দিয়ে দেখা করতে বললেন। প্রথম মাসেই লাখ টাকার একটি অর্ডার দিলেন। আমিও টাইম টু টাইম, ডেলিভারি দিলাম। পরের মাসেই দিলেন ২ লাখ টাকার অর্ডার। এর মাঝে আরো দুটো ছোট কোম্পানি পেয়ে গেছি, যাদের কাছে অল্প পরিমাণ সাপ্লাই দিই।
এখন মাসে আমার ৫০ হাজারের বেশি ইনকাম হলেও, খুশি না। নতুন অফিস নিতে হবে, আরো দুটো ছেলেকে নিয়োগ দিতে হবে। যে আমি ৫০ হাজার টাকা মাসে আয় করতে পারলে, পৃথিবীটাকে আমার মনে করতাম, সেই আমি ৫০ হাজার টাকাতেও সন্তুষ্ট হতে পারছিনা।
একদিন আমার মতই এক ব্যবসায়ী কথায় কথায় বলে উঠলেন, তার একটি কাজ থেকেই নিট প্রফিট হয়েছে ১ লাখ টাকা। আমার কাছে ১ লাখ তখন এক বিষ্ময়ের নাম। মনে মনে ভাবলাম, ১টি কাজ না, মাসে ১০০ টা অর্ডার আসুক, তবুও ১ মাসে যদি কখনো ১ লাখ প্রফিট করতে পারতাম, তাহলে আমি স্বর্গে বাস করতাম। এরই মাঝে এক বড় ভাই গল্পে গল্পে বললেন, তাদের বসের ছেলে ১ দিনেই লাখ টাকা উড়িয়ে বেড়ায়। ভাবতে লাগলাম, এটাও সম্ভব? মানুষের কত টাকা থাকতে পারে? সত্যিই কি মানুষ দৈনিক ১ লাখ টাকার ফুর্তি করতে পারে?
প্রায় ৫ বছরের মাথাতেই আমার ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ টাকা প্রফিট আসতে শুরু করলো। ততদিনে ১ লাখ টাকার চাহিদাও ফুরিয়ে গেছে। ১ লাখ টাকা দিয়ে কিছু হয়না। বছরে দু-একবার বিদেশ ঘুরতে হবে। ফ্লাট কিনতে হবে, গাড়ি কিনতে হবে। মায়ের চিকিৎসাতে কিছু খরচ হয়। ১ লাখ টাকা যেন হাতে আসার সাথে সাথে ফুরুৎ করে শেষ হয়ে যায়।
একদিন বন্ধুরা ধরলো, কিছু খাওয়াতে হবে। বন্ধুদের নিয়ে দামী রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম। এক বসাতেই ১২ হাজার টাকার বিল আসলো। বাসায় ফেরার পথে, এক ভিক্ষুক, ভিক্ষা চাইতে আসলো। তার সাথে গল্প জুড়ে দিলাম। সে বলল, তার স্বপ্ন গ্রামে ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটা জমি কিনবে। ২০ হাজার টাকা জমানোর পরে সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাবে। মনে মনে ভাবলাম, সেই ফকির যদি শোনে আমি ১২ হাজার টাকা ফুর্তি করে উড়িয়ে দিয়েছি, সে কি খুব অবাক হবে যেভাবে আমি লাখ টাকা ফুর্তি করে উড়ানোতে অবাক হয়েছিলাম? ফকিরকে ৫০০০ টাকা দিয়ে চলে আসলাম। আমি জানি সেই ৫০০০ টাকা তার কাছে এক বিষ্ময়ের ব্যাপার। সে এটা স্বপ্নেও দেখতে পারতোনা হয়ত। তবুও আমি আর পেছনে তাকালাম না। আমার ফকিরটার বিষ্ময়ের চোখ দেখতে ইচ্ছে করছেনা, তার কৃতজ্ঞতা সুলভ কথাও শুনতে ইচ্ছে করছেনা। আমি শুধু আমার মনের কাছে আনন্দ পেতে চাচ্ছি।
এখন আমার প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয়। ব্যবসার পুঁজিও ভাল জমেছে। ৫০০০০ টাকা আয়ের স্বপ্নর সময়, যে টাকার কখনও স্বপ্ন সেভাবে দেখিনি, তার চেয়েও বেশি টাকা ব্যাংকে জমা আছে। এক্সেল সিট ওপেন করে, আমার টাকার হিসাব দেখতে লাগলাম। বেশ সুখি বোধ করতে লাগলাম। মুহুর্তের মধ্যে বউয়ের কথা মনে হলো। এর আগে একটি ফ্লাট করেছি। বউ আরেকটি ফ্লাট করার জন্য কবে থেকে জোর জবস্তি করছে। দুই ছেলের জন্য দুই ফ্ল্যাট। কিছুদিন ধরে আরেকটি ব্যবসা চালু করার জন্য মাথায় আইডিয়া ঘুরছে। কিন্তু সেই ব্যবসা চালু করতে যে পরিমাণ টাকার দরকার, সেটি আমার কাছে নেই। এগুলো ভেবে হঠাৎ করে নিজেকে খুব গরীব মনে হতে লাগলো। যে মানুষটি ২ মিনিট আগে নিজেকে সুখি ভাবতে ছিল, ২ মিনিটের ব্যবধানে, নিজেকে গরীব অসহায় ভাবছে।
যে আমি আজ থেকে ১৫ বছর আগে মাসে ৫০০০০ হাজার টাকা আয় করাকে সুখি জীবন ভাবতাম, সেই আমি আজ মাসে ৩ লাখ আয় করেও সুখি হতে পারছিনা।
সুখ তাহলে কোথায় লুকিয়ে থাকে? টাকাতে সুখ? নাকি নিজের চাহিদা, কল্পনার মাঝে সুখ?
যে ফকিরটা এক সময় ভাবতো ২০ হাজার টাকা দিয়ে গ্রামে জমি কিনে সুখি থাকবে, সে কি সুখি হতে পেরেছে? আমার খুব সেই ফকিরের কাছে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে, সে সুখি কি না। আজ এতদিন পরে সেই ফকিরকে দেখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সে কোথায় আছে আমার পক্ষে আর জানা সম্ভব না। নাকি সেও বাড়ির পরে, একটা গরু, একটা ভ্যান বা মেয়ের বিয়ের চাহিদার স্বপ্নে, তারও সুখ জলাঞ্জলি দিয়েছে?
সংগৃহিত ও পরিমার্জিত।
২০১৫ এ এসে নতুন পে-স্কেল পেলাম, বেতন হলো ৩৫০০০ টাকা। ৩৫ হাজার টাকাও কিভাবে যেন শেষ হয়ে যেত। তবুও ৫০ হাজার টাকা বেতনের স্বপ্ন থেকেই গেল।
২০১৮ সালে এক বন্ধুকে নিয়ে ব্যবসাতে নামলাম। বিভিন্ন অফিসে, অফিস এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ের কাজ। প্রথম মাসেই লাভের ভাগ থেকে, আমি পেলাম ৪০০০০ টাকা। আমরা দুই বন্ধুই সব। কোন অফিস অ্যাসিসটেন্টও নেই। নিজেরাই সব করি। পরের দুই মাসে বেশ ধরা খেলাম। একটি পার্টি পণ্য নিয়ে, আর টাকা দেয়না। আমাদের পুঁজিও অল্প। চোখে সর্ষে ফুল দেখি। কি করবো বুঝছি না।
৩ মাসের মাথাতেই ব্যবসা বন্ধ করার অবস্থা। আল্লাহ তায়ালার কি রহমত, একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে অফিস এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ের কাজ পেলাম। প্রথম মাসেই বেশ বড় সড় অর্ডার পেলাম। কয়েক জায়গা থেকে লোন নিয়ে, ডেলিভারি দিলাম। উক্ত কোম্পানিও ২৮ দিনের মাথাতে চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দিলেন। ওই অর্ডারের বিপরীতে আমাদের প্রফিট ছিল, ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। আমার বেতন নির্ধারণ হলো ৫০ হাজার আর আমার বন্ধুর ৬০ হাজার। বাকি টাকা থেকে, অফিস ভাড়া, পুঁজির জন্য কিছু টাকা আলাদা রাখা। নিজের মত স্বাধীন ব্যবসা। ভালই চলছে। মাঝে বন্ধুর বিসিএস হয়ে গেল, সে আর ব্যবসা করবেনা। সে ব্যবসা ছেড়েই দিলো। ব্যবসার সাথে কোন রকম সম্পর্কই রাখলো না। আমি যেন একেবারে অথৈ সাগরে পড়লাম।
বাড়ি থেকে এর আগে কিছু টাকা লোন নিয়েছি। আর বেশি টাকা আনা সম্ভব না। এক জায়গা থেকে লাখে ৫ হাজার টাকার সুদে লোন আনলাম। সাহস করে, ১৫ হাজার টাকার বেতনের, একজন অফিস সহকারীও নিয়োগ দিলাম কেননা একা একা বিজনেস করা খুবই কঠিন।
কি ভাগ্য, এক বড় ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন পর রাস্তাতে দেখা। তিনি একটি কোম্পানির প্রকিউরমেন্ট বিভাগে রয়েছেন। ভিজিটিং কার্ড দিয়ে দেখা করতে বললেন। প্রথম মাসেই লাখ টাকার একটি অর্ডার দিলেন। আমিও টাইম টু টাইম, ডেলিভারি দিলাম। পরের মাসেই দিলেন ২ লাখ টাকার অর্ডার। এর মাঝে আরো দুটো ছোট কোম্পানি পেয়ে গেছি, যাদের কাছে অল্প পরিমাণ সাপ্লাই দিই।
এখন মাসে আমার ৫০ হাজারের বেশি ইনকাম হলেও, খুশি না। নতুন অফিস নিতে হবে, আরো দুটো ছেলেকে নিয়োগ দিতে হবে। যে আমি ৫০ হাজার টাকা মাসে আয় করতে পারলে, পৃথিবীটাকে আমার মনে করতাম, সেই আমি ৫০ হাজার টাকাতেও সন্তুষ্ট হতে পারছিনা।
একদিন আমার মতই এক ব্যবসায়ী কথায় কথায় বলে উঠলেন, তার একটি কাজ থেকেই নিট প্রফিট হয়েছে ১ লাখ টাকা। আমার কাছে ১ লাখ তখন এক বিষ্ময়ের নাম। মনে মনে ভাবলাম, ১টি কাজ না, মাসে ১০০ টা অর্ডার আসুক, তবুও ১ মাসে যদি কখনো ১ লাখ প্রফিট করতে পারতাম, তাহলে আমি স্বর্গে বাস করতাম। এরই মাঝে এক বড় ভাই গল্পে গল্পে বললেন, তাদের বসের ছেলে ১ দিনেই লাখ টাকা উড়িয়ে বেড়ায়। ভাবতে লাগলাম, এটাও সম্ভব? মানুষের কত টাকা থাকতে পারে? সত্যিই কি মানুষ দৈনিক ১ লাখ টাকার ফুর্তি করতে পারে?
প্রায় ৫ বছরের মাথাতেই আমার ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ টাকা প্রফিট আসতে শুরু করলো। ততদিনে ১ লাখ টাকার চাহিদাও ফুরিয়ে গেছে। ১ লাখ টাকা দিয়ে কিছু হয়না। বছরে দু-একবার বিদেশ ঘুরতে হবে। ফ্লাট কিনতে হবে, গাড়ি কিনতে হবে। মায়ের চিকিৎসাতে কিছু খরচ হয়। ১ লাখ টাকা যেন হাতে আসার সাথে সাথে ফুরুৎ করে শেষ হয়ে যায়।
একদিন বন্ধুরা ধরলো, কিছু খাওয়াতে হবে। বন্ধুদের নিয়ে দামী রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম। এক বসাতেই ১২ হাজার টাকার বিল আসলো। বাসায় ফেরার পথে, এক ভিক্ষুক, ভিক্ষা চাইতে আসলো। তার সাথে গল্প জুড়ে দিলাম। সে বলল, তার স্বপ্ন গ্রামে ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটা জমি কিনবে। ২০ হাজার টাকা জমানোর পরে সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাবে। মনে মনে ভাবলাম, সেই ফকির যদি শোনে আমি ১২ হাজার টাকা ফুর্তি করে উড়িয়ে দিয়েছি, সে কি খুব অবাক হবে যেভাবে আমি লাখ টাকা ফুর্তি করে উড়ানোতে অবাক হয়েছিলাম? ফকিরকে ৫০০০ টাকা দিয়ে চলে আসলাম। আমি জানি সেই ৫০০০ টাকা তার কাছে এক বিষ্ময়ের ব্যাপার। সে এটা স্বপ্নেও দেখতে পারতোনা হয়ত। তবুও আমি আর পেছনে তাকালাম না। আমার ফকিরটার বিষ্ময়ের চোখ দেখতে ইচ্ছে করছেনা, তার কৃতজ্ঞতা সুলভ কথাও শুনতে ইচ্ছে করছেনা। আমি শুধু আমার মনের কাছে আনন্দ পেতে চাচ্ছি।
এখন আমার প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয়। ব্যবসার পুঁজিও ভাল জমেছে। ৫০০০০ টাকা আয়ের স্বপ্নর সময়, যে টাকার কখনও স্বপ্ন সেভাবে দেখিনি, তার চেয়েও বেশি টাকা ব্যাংকে জমা আছে। এক্সেল সিট ওপেন করে, আমার টাকার হিসাব দেখতে লাগলাম। বেশ সুখি বোধ করতে লাগলাম। মুহুর্তের মধ্যে বউয়ের কথা মনে হলো। এর আগে একটি ফ্লাট করেছি। বউ আরেকটি ফ্লাট করার জন্য কবে থেকে জোর জবস্তি করছে। দুই ছেলের জন্য দুই ফ্ল্যাট। কিছুদিন ধরে আরেকটি ব্যবসা চালু করার জন্য মাথায় আইডিয়া ঘুরছে। কিন্তু সেই ব্যবসা চালু করতে যে পরিমাণ টাকার দরকার, সেটি আমার কাছে নেই। এগুলো ভেবে হঠাৎ করে নিজেকে খুব গরীব মনে হতে লাগলো। যে মানুষটি ২ মিনিট আগে নিজেকে সুখি ভাবতে ছিল, ২ মিনিটের ব্যবধানে, নিজেকে গরীব অসহায় ভাবছে।
যে আমি আজ থেকে ১৫ বছর আগে মাসে ৫০০০০ হাজার টাকা আয় করাকে সুখি জীবন ভাবতাম, সেই আমি আজ মাসে ৩ লাখ আয় করেও সুখি হতে পারছিনা।
সুখ তাহলে কোথায় লুকিয়ে থাকে? টাকাতে সুখ? নাকি নিজের চাহিদা, কল্পনার মাঝে সুখ?
যে ফকিরটা এক সময় ভাবতো ২০ হাজার টাকা দিয়ে গ্রামে জমি কিনে সুখি থাকবে, সে কি সুখি হতে পেরেছে? আমার খুব সেই ফকিরের কাছে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে, সে সুখি কি না। আজ এতদিন পরে সেই ফকিরকে দেখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সে কোথায় আছে আমার পক্ষে আর জানা সম্ভব না। নাকি সেও বাড়ির পরে, একটা গরু, একটা ভ্যান বা মেয়ের বিয়ের চাহিদার স্বপ্নে, তারও সুখ জলাঞ্জলি দিয়েছে?
সংগৃহিত ও পরিমার্জিত।