গল্পে ফিরে যান

সরকারি চাকরি

Posted 2 months ago
মাসের ১ তারিখে একাউন্টে ১ লাখ টাকা ঢোকে, তবুও শ্বশুর বাড়ির ডিমান্ড ছেলে সরকারি চাকরি করে না?

খুবই তিক্ত, কিন্তু আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রিয়েলিটি চেক।

সিনারিওটা দেখেন:
আপনি রিমোট জব করেন বা টপ কোনো সফটওয়্যার ফার্মে আছেন। আপনার স্যালারি সিক্স ফিগার । আপনি নিজের টাকায় আইফোন কেনেন, বাইক মেইনটেইন করেন, ফ্যামিলির সব খরচ চালান।
কিন্তু সমস্যা বাধে তখন, যখন আপনি বিয়ের পিড়িতে বসতে যান বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যান।

১. দ্য ম্যারেজ মার্কেট ট্রাজেডি:
পাত্রীপক্ষ আপনার স্যালারি স্লিপ দেখে না, তারা দেখে আপনার পদের সাথে সরকারি সিল আছে কিনা।
মেয়ের বাবার সোজা কথা বাবা, তোমার চাকরি তো প্রাইভেট। আজ আছে কাল নাই। আমার মেয়ের ফিউচার সিকিউরিটি কী? তার চেয়ে ওই যে ২০ হাজার টাকা বেতনের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছেলেটা ওর চাকরিটা তো পার্মানেন্ট! মানে আপনার স্কিলের কোনো দাম নাই, দাম ওই স্থায়ী ট্যাগটার।

২. উপরের ইনকাম বনাম হালাল রুজি:
আত্মীয়রা আপনাকে খোঁচা দিয়ে বলবে সারা দিন তো ল্যাপটপেই মুখ গুঁজে থাকো, মাস শেষে কয় টাকা থাকে? তোমার খালাতো ভাই দেখছো? কাস্টমসে বা ল্যান্ড অফিসে ঢুকে ২ বছরেই ফ্ল্যাট কিনে ফেলছে!
তারা ইনডাইরেক্টলি আপনাকে বুঝাচ্ছে আপনার চাকরিতে টেবিলের তল দিয়ে টাকা আসার সুযোগ নাই, তাই আপনার কোনো ভ্যালু নাই। আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে স্কিল দিয়ে সৎ পথে টাকা কামানোকে বোকামি আর দুর্নীতি করে বড়লোক হওয়াকে স্মার্টনেস ভাবা হয়।

৩. পাওয়ারের বড়াই:
রাস্তায় কোনো ঝামেলায় পড়লে বা থানায় গেলে আপনার কোডিং স্কিল বা গিটহাব প্রোফাইল কাজে লাগে না। কাজে লাগে মামা-চাচা বা পকেটের জোর। এই ভয়েই বাবা-মায়েরা চায় ছেলে বিসিএস ক্যাডার হোক।

আমার রিয়েলাইজেশন:
ভাই, ওরা যা বলে বলুক। দিনশেষে নিজের স্কিলটাই আসল।
সরকারি চাকরিতে হয়তো পাওয়ার আছে, কিন্তু আমাদের আছে ফ্রিডম।
আমি চাইলেই ল্যাপটপ নিয়ে কক্সবাজার বসে কাজ করতে পারি, আমি চাইলেই গ্লোবাল মার্কেটে বিট করতে পারি। আমার বস আমাকে চেনে আমার কাজের জন্য, তেলের জন্য না।

যে সমাজ বা যে শ্বশুরবাড়ি আপনার মেধার চেয়ে আপনার চেয়ারের পাওয়ার বা উপরি ইনকাম কে বেশি দাম দেয় বিশ্বাস করেন, সেখানে আপনার না যাওয়াটাই ভালো।

কথাগুলো যদি হৃদয় ছুঁয়ে যায়, শেয়ার করুন।

কথাগুলো পড়ার পর যদি মনে দাগ কাটে—তাহলে আপনার অনুভূতিটাও জানিয়ে যান।

মন্তব্যসমূহ (0)

No comments yet. Be the first to comment!